মার্কিন শুল্কনীতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রফতানি কমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান হয়ে উঠেছে সিউলের বিকল্প রফতানি বাজার। গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। খবর কোরিয়া হেরাল্ড।
কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (কেআইটিএ) জানিয়েছে, জানুয়ারি-মে মাসে আসিয়ান অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৮৮ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। যার কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ নীতি। অন্যদিকে চীনে রফতানি কমেছে ৫ শতাংশ।
গত ফেব্রুয়ারিতে আসিয়ান অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি পৌঁছায় ৯৫৬ কোটি ডলার, যা ২৩ বছর পর প্রথমবারের মতো চীনে রফতানিকে ছাড়িয়ে যায়। ফেব্রুয়ারিতে চীনে রফতানির পরিমাণ ছিল ৯৫০ কোটি ডলার।
মার্চেও একই প্রবণতা বজায় ছিল। এ সময় আসিয়ানে রফতানি হয় ১ হাজার ২৬ কোটি ডলারের পণ্য। চীনে রফতানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬ কোটি ডলার।
মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫ কোটি ডলার, আর চীনে রফতানি ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০ কোটি ডলার। ওই মাসে আসিয়ানে রফতানি মূল্য ছিল ১ হাজার কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কম।
এক পূর্বাভাসে কিছুদিন আগে কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এজেন্সি (কেওটিআরএ) বলেছিল, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে চীননির্ভরতা কমানো, ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সম্প্রসারণের কারণে আসিয়ান দেশগুলো ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য একটি সম্ভাবনাময় রফতানি গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
এ অঞ্চলে সম্ভাবনাময় রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, রোবট, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির ব্যাটারির যন্ত্রাংশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য পণ্য।